Wednesday, June 26, 2019
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
চ ম্পা ম ন্ড ল                  ম নি খ ন্দ কা র                 রা ব বা নী স র কা র                  র ফি কু ল ই স লা ম                  শা হা না র হ মা ন                  রি ট ন মো স্তা ফা                  অ নি ন্দ্য আ নি স                 দি লু রো কি বা                  ই ভা আ ল মা স                  আ রে ফি ন শি মু ল                  নূ রু ন্না হা র নী রু                 মা হ বু বা ক রি ম                  আ নো য়া রা আ জা দ                 

বন্ধু ফোরাম


মোঃ বি ন য় আ মি ন
অস্পষ্ট কষ্টবোধ :
সময় : 2019-05-22 09:28:05

অদ্ভূত এক বিচিত্র কারণে মিজানের মেজাজ - মর্জি খিচড়ে আছে । কারণটা স্পষ্ট নয় । একটা গাছের নিচে চুপটি করে বসে আছে । ভাবে মানুষের মনটা বড়ই অদ্ভূত কিছু একটা । এই ভালো , এই মন্দ । পারদের মত উঠানামা করছে । এই হাসি এই বিষাদ । কিছুক্ষণ আগেও ভালো ছিল । এখন ভালো লাগছে না । সুন্দরী হাস্যময়ী – লাস্যময়ী স্ত্রী পাশে ছিল । তার সাথে হাসি তামসা করেছে । সে নিজেও খুব হেসেছে , স্ত্রীও হাসি বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত খিল খিল শব্দ তুলে তার মনে বার বার পুলক তুলেছে । কিছুক্ষণের মাঝেই তা আর ভালো লাগে না । অজানা কোন এক কারণে মনটা খারাপ হয়ে আছে , স্ত্রী তা হয়তো লক্ষ করেনি । ভাবে মানুষের এই জৈব রাসায়নিক মিশ্রিত হাড়গোর , রক্ত – মাংসে গড়া এই দেহটা এতো অদ্ভূত কেনো ? মগজ নামে জটিল যন্ত্রে কেন অশান্তির ঝড় বয়ে যায় কিন্তু কেনো ? মনের কোণায় কী এক অশান্তি তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে কেনো ? কী করলে একটু ভালো থাকবে ? এটা কী সত্য যে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ধীরস্থির একটু বেশী ? একটা অশান্তিতে ছেলেরা অতি সহজেই ভেঙ্গে পড়ে , মেয়েরা মনে হয় তত সহজে ভেঙ্গে পড়ে না । ওরা সহজেই নিজেদের সামলে নিতে পারে কিন্তু ছেলেরা মনে হয় পারে না । ওদের কষ্ট বেড়েই চলে ।
এক অজানা কষ্টবোধ তা মনকে খুবলে খুবলে খাচ্ছে । এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী ? একের পর এক সিগারেট ধ্বংস করেও কোন লাভ হচ্ছে না । এদিকে সিগারেটও শেষ হয়ে যাচ্ছে । আশে পাশে দোকান নেই , কাউকে পাঠিয়ে যে আনবে তার কোন উপায় নেই । 
এই বিরাট বট গাছের ছায়ার নিচে বসে আছে এক ঘণ্টা হয়ে গেছে । এর মাঝে এদিকে কাউকে আসতে দেখেনি । এ জায়গাটা তার অচেনা । এখানে সে স্বস্ত্রীক বেড়াতে এসেছে । এটা স্ত্রীর এক খালার বাড়ি । শ্বশুর বাড়ি আরও পাঁচ মাইল দূরে , সেখানেই এসেছে মূলত । শ্বশুর বাড়ীর কেউ কী নিজের অজান্তে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে ? বার কষ্ট দেয় এমন কোন শব্দ ব্যবহার করেছে ? কই না তো ? তা হলে ? কেন মনটার গভীর কোণে উত্তেজিত – বিষাদে পূর্ণ হয়ে আছে , কিন্তু কেন ?
শীতকালে এই সকালবেলাটা ক্রমশ বেলা চড়ে যাচ্ছে । শীতের রোদ চামড়ায় লাগলে চড় চড় করে । বিশাল গাছের নিচে বসে আছে বলে রোদ লাগছে না কিন্তু একটু শীত শীত লাগছে । মাঝে মঝে শীতের বাতাস মুখের উপর এক মায়াবী স্পর্শ বুলিয়ে যাচ্ছে । আশ্চার্যজনক ভাবে মনের ভেতরটা একটু শান্ত হচ্ছে । আবার পরক্ষনে অশান্তির আগুনটাকে উসকে দিচ্ছে ! 
একটা বার তের বছরের কিশোর , একটা কালো ছাগল নিয়ে এসেছে । ছেলেটি তার দিকে দু’একবার তাকিয়েছে । মিজান অলস চোখে ছেলেটির কর্মকান্ড দেখতে থাকে । চোখাচোখি হলেই সচিকিত ভাবে তাকায় । কিশোরটি সামনের ঘাসের সবুজ গালিচায় ছাগলটিকে ছেড়ে দেয় । লম্বা দড়ি মাথা ধরে ওর থেকে অল্প দূরে বসে থাকে । সে ছাগলের দিকে আনমনে চেয়ে থাকে । ছেলেটি কীও ভাবছে ? 
মিজান ভাবে --- অদ্ভুত তো ! এতোটুকু একটা শিশু যার বয়স বার তের হবে ; সেও মন খারাপ করে আছে , বালকসূলভ চপলতা নেই । নিশ্চল – নিথর – আবেগহীন এক মরা নদীর মত বসে আছে ,যে নদীতে স্রোত নেই । কল কল শব্দ নেই । উচ্ছ্বাস নেই । এও কী তার মত কোন এক অজানা কষ্টবোধ লালন করছে ? কোন কষ্টবোধ বয়ে বেড়াচ্ছে ? কোথায় এর উৎস ? জৈব রাসয়নিক পদার্থে মিশেল এই দেহের কোথাও এর অস্থান ? মানুষ কী জন্মসূত্রে কষ্টবোধধারী ? অন্যমনস্কগামী , একাকী ? এতো পৃথক কেন নরনারীর কষ্টবোধ ? যদি এই বৈপিরত্য বিশিষ্টের মানুষ দুটিকে একসাথে সৃষ্টি করতেন তবে কী হতো ? কিছু মৌলিক পার্থক্য রেখে যদি তৈরি হতো নরনারীকে , তবে কী হতো ? সে জটিল প্রশ্নের জবাব নেই মিজানের । 
“ বাবু , তোমার নাম কী ?” ছেলেটির দিক তাকিয়ে হাসে মিজান । ছেলেটি তার প্রশ্নের জবাব দেয় না । হাসল না । চোখে মুখে একটু বিরক্তির ভাব তুলে তার দিকে এক ঝলক তাকিয়েছে মাত্র । সে অর্নিমেষ তার ছাগলের দিকে তাকিয়ে আছে । 
“ বাবু তোমার মন খারাপ কেন ? কে বকেছে ?” এবারও তার কথার জবাব দেয় না । এতকাছে বসে আছে , তবু মনে হয় কত যোজন মাইল দূরে আছে । তার কথা শুনতে পারছে না । মিজান ইচ্ছা করলেই হাত বাড়িয়ে ওকে ছুঁতে পারে । কোন কষ্টবোধ এই বাচ্চাটিকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে । মানুষের এতো কষ্ট কেন ? এতোটুকু বাচ্চাকেও রেহাই দিচ্ছে না ? মানুষ বলে ? নাকি ঘাত – প্রতিঘাত পরীক্ষার একটি উপায় ? কেন এই পরীক্ষা ? কি লাভ আছে এই পরীক্ষার রেজাল্ট দেখে ? কত কষ্ট সইতে পারে , মানুষও তার সৃষ্টি কর্মের কঠিন পরীক্ষা নেয় না ? সেতো এক প্রাণহীন জড় পদার্থের উপর , কিন্তু অন্য কোন ইতর প্রানির উপর পরীক্ষা নেয় না মানুষ ? ধৈর্য ধরে তার ফল দেখে না ? মানুষের ভেতর এতো বোধের ছড়াছড়ি কেন ? কষ্টবোধ, আনন্দবোধ, ঘৃণাবোধ, আবেগবোধ, অহংকারবোধ, ঈর্ষাবোধ, অসহিষ্ণুবোধ, রাগবোধ, তাচ্ছিল্যবোধ, কামবোধ, ভালোবোধ, আরও কত বোধ এই জৈব রাসায়নিক ভরপুর দেহের অভ্যান্তরে খেলা করছে । তা কে জানে ? 
“ এই বাচ্চা তোমাকে কী জিজ্ঞেস করছি ? তোমার নাম কী ?” 
“ আমি বাচ্চা না , কাজল আমার নাম !” ছাগলের দিকে তাকিয়ে কাঠ – খোট্টা জবাব দেয় কিশোর । তা শুনে মিজান হাসে । আত্বসন্মানবোধ আছে ছেলেটির । 
“ তোমার কী মন খারাপ ?” এ কথার জবাব দেয় না । 
“ আমার কাছে আসো , আমি মজার মজার কথা জানি ,শুনবে ?” 
“ আমি গল্প শুনি না ।” 
“ আচ্ছা , তুমি কোন ক্লাসে পড় ?”
“ ক্লাস ফোরে । এতো কথা বলবেন নাতো ? চুপ করে ছিলেন তো চুপ করে থাকুন , আমার কথা বলতে ভালো লাগছে না ভাইয়া !”
“ কী হয়েছে ? একটু বল না ভাইয়া ।”
“ তা জেনে আপনার কী লাভ ?”
“ লাভ নেই ঠিক । জানো আমারও তখন থেকে মন খারাপ , কেন খারাপ জানি না , যেই তোমাকে দেখলাম , তোমার সাথে কথা বলতে শুরু করলাম অমনি মন ভালো হতে শুরু করছে , এখন যদি তুমি আমার সাথে আরেকটু কথা বলতে তবে আমার মনটা ভালো হত কিন্তু তুমি তো কথাই বলতে চাচ্ছ না ।”
“ বসে থাকুন , এতো কথা বলবেন না --- ভালো লাগছে না কথা বলতে ।” বাচ্চাটার চোখে মুখে বিরক্ত ভাব প্রকাশ হচ্ছে । পিচ করে থুথু ফেলে । ওর ছাগলটা একটু শব্দ করে উঠে । 
“ না মনে করলাম তুমি এভাবে বসে আছো আমার মত তোমারও মন খারাপ , একটু কথা বললে দুজনেরই মন ভালো হবে , এখন দেখি তুমি খুব রেগে আছো একটু কাছে আসো কথা বলি ।” ছেলেটা আমিই ও কাছে সরে আসি । ছেলেটির বিষয়ে আমাকে বেশ আগ্রহ করে তুলেছে , ওর অদ্ভূত আচরণে । আমার মনে জমে থাকা কষ্টবোধের কালো কুয়াশার চাদরটা ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে । মনের এই বৈপিরিত্যের অদ্ভূত কারণ আমি খুঁজে পেলাম না । সৃষ্টি কর্তা আমার মনের কষ্টবোধ দূর করে দিচ্ছেন ? কেন দিচ্ছেন ? আমার উপর কী দায়িত্ব পড়েছে ? এই শিশুটির মনে জমে থাকা কষ্টবোধ দূর করার ? আমি তো নিরান্তন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু পারছি না তো । এতো মিষ্টি করে ওকে কাছে ডাকছি কিন্তু সে কাছে আসছে না , সৃষ্টি কর্তাও কী আমাদের মত চেষ্টা করেন ? নাকি তিনি কিছু মনে করলেই হয়ে যায় ? চাইলেই হয়ে যায় ? তিনি মানুষের মত চাইবেন কেন ? আমরা সাধারণ মানুষ । আমাদের চাওয়া অনেক কিন্তু পাওয়া অনেক কম । আমরা চাইলেই কিছু হয় না । 
“ বাবু --- ও তোমার নাম কাজল , কাজল মানে কী জানো ? কাজল মানে হচ্ছে , কী সুন্দর নাম তোমার ।” আমি নামের অর্থ এদিক সেদিক চেয়ে খুঁজি । ছেলেটা আমার ভঙ্গি দেখে খিল খিল করে হেসে উঠে । মনে হচ্ছে ছেলেটা একটু সহজ হয়ে আসছে । 
“ নামের অর্থ তো জানেন না , আমিও জানি না কিন্তু খুব পচা আমার নাম --- মেয়েদের নামে নাম , আম্মু নাম আর খুঁজে পেলেন না ।” স্পষ্ট বিরক্ত প্রকাশ করে ।
“ তোমার নামের অর্থ কিন্তু খুব সুন্দর , তুমি তো জানো না , এমনি অর্থ হচ্ছে মালিন্য , ভুষা কালি যা দিয়ে কাজল বানান হয় , ছোট বেলা বাচ্চাদের চোখ যদি খুব কালো দেখা যায় তখন মায়েরা বাচ্চার নাম কাজল রাখে --- তোমার চোখ খুব সুন্দর । আচ্ছা --- তুমি কোন ক্লাসে পড় ? ঠিকমত পড়া পার ?”
“ আমি ক্লাসের ফার্স্ট বয় , আমি ঠিক মত পড়া পারি , বাসায় জিজ্ঞেস করে দেখুন ।”
“ তা ফার্স্ট বয় মনটা কেন খারাপ বলবে ? এই তো একটু আগে কী সুন্দর করে হাসলে এমন সুন্দর যার হাসি তাঁকে মুখ গোমড়া করা মানায় না । জানো তোমার সাথে কথা বলার আগে আমার মনটা ভীষণ খারাপ ছিল , তোমাকে দেখে খুব ইচ্ছা হল তোমার সাথে কথা বলি এখন আমার মন ভালো হয়ে গেছে তোমার মনটাও নিশ্চয় ভালো হচ্ছে ? আচ্ছা তোমার কী খেতে বেশী ভালো লাগে ?”
“ আচার ।” বলে গালে গভীর টোল ফেলে হেসে উঠে । 
“ সত্যি ? আমারো আচার খেতে ভীষণ ভালো লাগে , তো কি আচার তোমার ভালো লাগে ?” 
“ তেতুল , আচার আপনার কাছে ভালো লাগে ?”
“ কেন লাগবে না ।”
“ যাহ্‌ , আপনি তো বড় মানুষ , বড় ছেলেদের কী আচার ভালো লাগে ? আমার আব্বা আচার মুখেই দিতে পারেন না --- টক লাগে , আম্মা খেতে পারে , আর আমিই খেয়ে শেষ করি ।”
“ কিন্তু , আমারও তেতুলের আচার প্রিয় , দেখলে তোমার সাথে আমার কত মিল !”
“ যাহ্‌ --- আপনি সত্যি বলছেন , আপনার কি খেতে বেশী ভালো লাগে ?”
“ আমার --- আমার আলুভাজি খেতে খুব ভালো লাগে ।”
“ যাহ্‌ --- খালি খালি মিথ্যা বলেন , তবে আমারও আলু ভাঁজি খুব পছন্দ , আচ্ছা বলেন তো আমার কোন মাংস বেশী ভালো লাগে ?” ছেলেটা এখন খুব সহজ হয়ে এসেছে । আমার মনের মাঝে জমে থাকা কষ্টবোধ অনেকাংশে কমে গেছে । সৃষ্টি কর্তা মনে হয় আমাদের দুজনের কষ্টবোধ আপাতকালিন দূর করে দিচ্ছেন । 
“ তোমার মুরগীর মাংস ভালো লাগে , আর খেতে ভালবাস মুরগীর রান , কী ঠিক আছে ?”
“ যাহ্‌ --- এতো কিছু জানেন কি ভাবে ? কাজল একটু সন্দেহ নিয়ে তাকায় আমার দিকে , --- আচ্ছা ভাইয়া আপনাকে বাবলি পাঠায় নি তো ?”
“ ও মা , বাবলিটা আবার কে ?”
“ ইস্‌ --- জানেন না বুঝি ? বাবলি আমার আপা , আমার থেকে একটু বড় , ক্লাস নাইনে পড়ে , তাতে কী দেমাগ ! দেমাগের চটে মাটিতে পা পড়ে না ; ওর বই ধরেছি অমনি গালে একটা চড় কষিয়ে দিলো , ফাজিল নাম্বার ওয়ান , কিছু হলেই আম্মাকে বলে দেয় আমাকে একটুও আদর করে না আচ্ছা বলুন তো ও আপনাকে পাঠায় নি তো ?”
“ আরে না না , আমি তোমার বোনকে চিনি না , তোমাকেও চিনি না । দেখলাম তুমি মন খারাপ করে বসে আছো আমিও বসে আছি --- ভাবলাম তোমার সাথে কথা বললে দুজনের মন ভালো হয়ে যাবে , কী এখন মনটা ভালো হয়ে গেছে না ?”
“ ও --- তা হলে বাবলি আপনাকে পাঠায় নি যাক্‌ বাচা গেল ।”
“ আচ্ছা এই ছাগলটা কার ?”
“ আমার --- আব্বা আমাকে কিনে দিয়েছেন , আমি পালছি । বাচ্চা হলে তাও আমার হবে । বাবলিকে দেবো না ।”
“ নিশ্চয় তোমার ---- ।”
“ কিন্তু জানেন বাবলি বলে বাচ্চা হলে সেটা তার হবে , আমি কিছুতেই দেবো না , আমি রোজ মাঠে চরাতে নিয়ে আসি , সে আনে না , আম্মা আনতে দেয় না , বড় হয়ে গেছে --- আচ্ছা বলত তো ভাইয়া কী এমন বড় হয়ে গেছে সে ? আমি বড় হলে ওকে আচ্ছা করে মার লাগাবো --- ।” বলে রাগ দেখায় । 
“ ছি ! বাবলি না তোমার বোন ? আপন না ? আপাকে কি মারতে আছে ?”
“ আপা না কচু --- সারাক্ষণ আমার পিছনে লেগে থাকে , ফাহিমের আপা কি আদর করে , জানেন ওকে মুখে তুলে খাইয়ে দেয় , আর আমার আপাকে যদি বলি এক গ্লাস পানি এনে দিতে সে বলে তোর হাত কী পচে গেছে ? নিয়ে খা --- হারামির এক শেষ ! জানেন মাঝে মাঝে মনে হয় বাসা ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাই !” আমি চমকে উঠি ছেলেটার কথা শুনে । বলে কি ? বোনের উপর এতো রাগ ? 
“ কখনো যাবে না --- বোনের উপর রাগ করে বাসা থেকে কেউ চলে যায় ? তুমি বাবলিকে আদর কর , দেখবে সেও তোমাকে আদর করছে , সে তোমার বড় , তার কথা শুনবে – ঝগড়া ঝাটি করবে না দেখবে অনেক আদর করছে --- তোমাকে ভালবাসছে ।” 
“ না না ভাইয়া সে আমাকে ভালবাসবে না , সে খুব শয়তান । কিছুতেই না ,সে আমাকে খুব মারে , খুব বকা দেয় , আমার খাবার কেড়ে নেয় , আমার পয়সা কেড়ে নেয় --- অই যে অই যে আসছে , দেখুন শয়তানটা আসছে । আমাকে জ্বালাতে বটতলা পর্যন্ত চলে এসেছে ।” অদূরে একটা কিশোরী মেয়েকে দেখিয়ে দেয় । সুন্দরী ফুটফুটে মেয়েটা কাছে চলে আসে । কাজল মাথা বাকিয়ে অন্য দিকে চেয়ে থাকে । মিজান বুঝতে পারে বোনের উপর রাগ বাড়ছে । 
“ এ্যাই তুই এখানে বসে আছিস আর আমি তোকে সারা পাড়া খুঁজে মরছি । আম্মা না তোকে ছাগল বেঁধে চলে আসতে বলেছে ? তুই ও কী ছাগলের সাথে ঘাস খাচ্ছিস ?” হঠাৎ মিজানের দিকে চোখ যেতেই লজ্জায় একটু রাঙ্গা হল । উঠতি বয়সের কিশোরী মেয়ে , যুবক শ্রেণীর কারুকে দেখলেই লজ্জা লাগে । 
“ বস বাবলি , তুমি কেমন আছো ?”
“ ভালো ।” অবাক চোখে মিজানের দিকে চেয়ে থাকে । হয়তো ভাবছে এই লোকটা তাকে চেনে কিভাবে ? ইনাকে তো সে চিনে না । কখনো দেখে নি । 
“ আরে একটু বস না , কথা বলি তোমার সাথে ।” 
“ না বসবো না , আম্মা ওকে এখুনি বাসায় যেতে বলেছে --- এই চল চল ।”
“ না , আমি যাব না , তুই চলে যা । আমার উপর মাতব্বরি দেখাতে আসবি না । তুই চলে যা --- ভাইয়া ওকে চলে যেতে বলুন তো ।”
“ না গেলে কপালে আজ পিটুনি আছে , ঠিক আছে , আমি যাই ।”
“ যা দূর --- ভাগ !” কাজল বিতৃষ্ণা নিয়ে বোনের দিকে চেয়ে থাকে । কিন্তু বাবলি যায় না । সে একবার কাজলের দিকে আরেকবার মিজানের দিকে তাকাতে থাকে । মিজানের দিকে সন্দেহ নিয়ে তাকাচ্ছে । মনে হচ্ছে মিজান ছেলে ধরা তা বুঝতে পেরে মিজান মনে মনে হাসে । 
“ আচ্ছা আংকেল , আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না । আপনি কোথায় থাকেন ?”
“ আমি নাজমাদের বাসায় উঠেছি , চেন ?”
“ ও --- নাজমা আপাদের বাসায় বেড়াতে এসেছেন ? চিনি তো । কি লাগেন ওদের ?”
“ দুলাভাই , ওর খালাতো বোনকে রিতুকে বিয়ে করেছি ।”
“ তা হলে আমারো দুলাভাই লাগেন , নাজমা আপার আম্মা আমার আম্মার আপন খালাতো বোন , আচ্ছা আংকেল না মানে দুলাভাই ওকে একটু বাসায় যেতে বলুন , না হলে আম্মা ওকে হেভি পিটুনি লাগাবেন ।”
“ কাজল , আপা চলে যেতে বলছে , চলে যাও , ও তোমার বড় না ? বড়দের কথা শুনতে হয় তুমি বাসায় যাও ।”
“ বাসায় আমি যাবো , ওর কথায় না , আমি যাবো আমার ইছায় --- ওর ইচ্ছায় না ।” কাজল গো ধরে । উঠে দাঁড়ায় । 
“ দেখেন আংকেল কী করছে গাধাটা ?”
“ আচ্ছা ওকে চলে যেতে দাও , ওর ইচ্ছামত যেতে দাও ।” কাজল ছাগলটা ধরি ধরে , ওটাকে প্রায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে । বাবলি তা দেখে মুখ টিপে হাসতে থাকে । 
“ আচ্ছা , তোমরা ক’ভাইবোন ?”
“ আমি আর অই বাঁদরটা ।” বলে ফিক করে হেসে ফেলে । 
“ এ্যাই শয়তান , আমাকে বাদর বলবি না । আমি বাদর না , তুই বাদর , তুই ছাগল , তুই গাভী --- তোর পেটে বাছুর হবে --- সব কিছু সব কিছু ।” বলে ছাগলের দড়িটা ফেলে দিয়ে এক দৌড় লাগায় । সে দিকে চেয়ে থাকে বাবলি আর মিজান । 
দেখলেন তো ভাইয়া ? বাসায় এর চেয়ে আরও বেশী ডেঞ্জারাস , সারাক্ষণ আমার সাথে ঝগড়াঝাটি করতেই থাকে , কারুকে মানে না । কখনো আমাকে মারতে আসে । আস্ত একটা বেয়াদপ --- পাত্তা দিবেন না ভাইয়া ।”
“ বাবলি একটা কথা বলি যদি মনোযোগ দিয়ে শুনো , কাজল তোমার ছোট একমাত্র ভাই , তুমি ওর বড় আর একমাত্র আপা । ওর সব কথা অত্যাচার তোমাকে একটু সইতে হবে , এখন তোমার তো ওকে খুব আদর করার কথা কিন্তু কী দেখলাম ? যাক্‌ --- তুমি যদি ওর পিছনে লেগ থাকো তবে সে কোথায় যাবে ? ও তখন নিরাপত্তা হীনতাবোধ করবে , সে ভাববে ওকে কেউ ভালোবাসে না , তুমি ওর বড় বোন তোমার দায়িত্ব অনেক । ওকে মিষ্টি হেসে , আদর করে ওর ভুলগুলো ধরিয়ে দেবে , সারাক্ষণ ওর ভূল ধরবে না , ছোট খাটো দোষ ধরবে না , ওর কাজে সাহায্য করবে তখন দেখবে ও তোমার বাধ্যগত হয়ে গেছে , তুমিও ছোট , সে আরও বেশী ছোট । তোমরা ভাই বোন একে অপরকে ভালবাসবে । সে তোমার কাছ থেকে শিখবে । দেখবে সে তোমাকে কত আদরমাখা আবদার করবে , তখন খুব ভালো লাগছে । কি আমার কথা মনে থাকবে ?”
“ থাকবে দুলাভাইয়া ! আচ্ছা আসি । দেরী দেখে আম্মা বকবে । ওদিকে আবার বাঁদরটা বানিয়ে বানিয়ে আম্মাকে কী লাগাচ্ছে কে জানে , চলি ভাইয়া ?” বলে ঘুরে দাঁড়ায় বাবলি । আমি হেসে ফেলি ।

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter