Saturday, November 17, 2018
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির সৃষ্টি করেছে সংলাপ                 ভোটের ঢোল বেজে উঠল                

উপ- সম্পাদকীয়


ভোটের ঢোল বেজে উঠল
আতাউর রহমান মিটন :
সময় : 2018-11-09 23:04:17

রুদ্ধদ্বার সংলাপ শেষে শুন্য হাতেই ফিরে গেল সংলাপরত প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকলের কথা আন্তরিকভাবে শুনলেন, সংবিধানের মধ্যে থেকেই সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেন। সকলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানালেন। বললেন, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন তিনি করে দেখাবেন। আমরা ভাবলাম এই বুঝি সব মিটে গেল, সুবাতাস বইতে শুরু হলো সংলাপের খোলা জানালা দিয়ে। কিন্তু না এমন কিছু ঘটল না। সংলাপ হলো, আলোচনার দ্বার খোলা রইল কিন্তু রথ চলতে থাকল সেই আগের পথেই। কারণ ‘সালিশ মানি তবে চেয়ারটা আমার’! 

আমাদের রাজনীতি ক্ষমতাকেন্দ্রিক। এখানে একদল চাইছে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে আর অন্যদল চাইছে ক্ষমতায় যেতে। ক্ষমতা ধরে রাখা বা ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্খা দোষের নয়। কিন্তু তার জন্য গণরায় গ্রহণ করতে হবে। দেশটা কোন রাজা বা রাণীর নয়, এখানে কোন রাজতন্ত্র নেই। তাই জনগণের ভোট না নিয়ে এখানে কেউ ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইলে জনগণ একদিন ঠিকই সেই শক্তিকে টেনে গদি থেকে নামাবে। অতীতে এটা অনেকবার হয়েছে। আগামীতেও যে হবে না সেটা ভাবার কোন কারণ নেই। জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা আছে কিন্তু ভোট হবে নিজেদের সাজানো নীল নক্সায়, এটা কিভাবে সম্ভব? 

রাজনীতিতে বিরাজমান অনিশ্চয়তার কালো মেঘের আড়ালে সমাঝোতার যে আলোকরশ্মি দেখা দিয়েছিল গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা কর্তৃক জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করায় তা আপাততঃ আবার অন্ধকারে ঢাকা পড়ে গেল। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিইসি আশা করেন, এই নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশ নেবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,  ‘ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি বরং সরকারের ইচ্ছায় একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে’। অবিলম্বে খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দিয়ে অবিলম্বে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সরকারের ইচ্ছায় কথা বলছে নির্বাচন কমিশন।

সরকারি দল বলছে সংলাপ শেষ হলেও আলোচনার দরজা এখনও বন্ধ হয় নি। ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এলে এখনও হতে পারে সমাঝোতা। এটা তো সত্যি যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপ এর আগে কখনও হয়নি। ছোট-বড় প্রায় ৪০টি দল প্রধানমন্ত্রীর সাথে আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়েছেন। সেটা কম কথা নয়। যদিও অনেকেই মনে করেন ‘সংলাপ ছিল পাতানো খেলা’, ‘সময়ক্ষেপণের চেষ্টা’ মাত্র। ফল লাভের অস্থির বাসনা যাদের তারা হয়তো ভুলে যান যে, রাত যত গভীর হয় ভোর তত সন্নিকটে। এই মূহুর্তে সবকিছুকে হতাশার লেন্স দিয়ে না দেখে বরং কিছুটা সম্ভাবনার দৃষ্টিতে দেখা উচিত বলে মনে করি। বিরোধিপক্ষকেও এটা বুঝতে হবে যে, সরকার তাদের দাবী শতভাগ মানবে না। যেমন প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবী সরকার কিভাবে মানবে? সরকার যেহেতু সকলের অংশগ্রহণ চায়, তাই সরকারকে রাজনৈতিক চাপে রাখতে হবে আবার নিজেদেরও জাতীয় স্বার্থে ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। আন্দোলন, আলোচনার পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নিয়েও সরকারের ‘একতরফা’ নির্বাচনের বাসনা গুড়িয়ে দেয়া দরকার। 

খুব ভাল হতো যদি আমরা একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে পারতাম। কিন্তু সংবিধান সংশোধন করে সে পথ পরিহার করা হয়েছে। তবে দলীয় সরকার যদি আন্তরিক হয়, নির্বাচন কমিশন যদি থাকে আন্তরিক ও শক্তিশালী, তাহলে দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে এটাই হয়। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনও হলো বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনেই। তা সত্ত্বেও সেই নির্বাচনের ফল নিয়ে কারও মধ্যে কোন সংশয় বা সন্দেহ নেই। কারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সেখানে কোন ত্রুটি ছিল না। সেই অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, আমাদের এখনকার দাবী হওয়া উচিত সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বিরাজমান বাধা দূর করা। দেশে ইতোমধ্যে ৬৪ জন জেলা প্রশাসককে রিটানিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক রিটানিং অফিসারকে স্মারকলিপি দিয়ে বলা প্রয়োজন যে, এ এলাকায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে কি কি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং তার জন্য কি কি করা প্রয়োজন। গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধাগুলো দূর করার জন্য একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা থাকা দরকার। গণমাধ্যমের সরব উপস্থিতি জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় বিশেষ সহযোগিতা করতে পারে। বিরোধি দলগুলো বলছে, সরকার ইভিএম দিয়ে ভোট করিয়ে ঢাকা থেকে ফলাফল ঘোষণার ইঞ্জিনিয়ারিং করছে, আনসারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে একটি দলের অনুকূলে ভোট দেয়ার জন্য, ইত্যাদি। কথাগুলো বিরোধিতার জন্য বলা নাকি এটাই সরকারের স্বরূপ তা আমরা গণমাধ্যমের চোখ দিয়ে দেখতে চাই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অতন্দ্র প্রহরী আমাদের সরব গণমাধ্যম কর্মীরা। আমরা আশাকরি, দেশে ষড়যন্ত্রের জাল যত বিস্তৃত হবে, গণমাধ্যমের ভূমিকা হবে ততই শক্তিশালী। 

নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হয়েছে। দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে এবার পরিবর্তন আসবে। জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চাইলে ৩ দিনের মধ্যে তা নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। রাস্তার দু’ধার ছেয়ে থাকা রঙিন ও বাহারী পোষ্টার, ফেষ্টুন, বিলবোর্ডগুলো বদলিয়ে সেখানে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত মাপ ও রং অনুযায়ী প্রচারপত্র প্রদর্শন করতে হবে। একজন প্রার্থী কোন অবস্থাতেই ২৫ লক্ষ টাকার বেশি নির্বাচনে ব্যয় করতে পারবেন না। ক্ষমতায় থাকা বর্তমান মন্ত্রী ও এমপিগণ যদি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন তবে তাদেরকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পরিহার করতে হবে। তারা কোন সরকারি প্রটোকল পাবেন না। অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলগুলোর প্রার্থীদের মতই তাদেরও একই সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এটাকেই নির্বাচন কমিশন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বলতে চাইছেন। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে এর পরিধি আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত। বিশেষ করে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর উপর ক্ষমতাসীন সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্য হ্রাস করা না গেলে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ কখনই নিশ্চিত হবে না। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের সেই দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতা আমরা দেখতে চাই। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক সেটা আমাদের প্রাণের চাওয়া। আমরা জনগণ শান্তি চাই। আমরা উভয়দলকে নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই। গণতন্ত্র থাকলে দেশের উন্নতি হবে। পিছিয়ে পড়া সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রেরণায় আজও সংগ্রামের ঝান্ডা বয়ে চলেছে নিপীড়িত, মেহনতি জনতা। তাদের কাছে একদিনের ভোটের তেমন কোন মূল্য না থাকলেও তারা এই ভোটের অধিকার সুরক্ষার জন্য ত্যাগ স্বীকারে রাজী। ভোট আমাদের মত সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমরা পরিবার-পরিজনের ভাতের নিশ্চয়তা চাই। একদলকে হটিয়ে একই শ্রেণীর অন্য আরেকদলকে ক্ষমতায় বসিয়ে সাধারণ মানুষের কোন লাভ নেই। বিগত ৪৭ বছরে দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় দলবদল হয়েছে কিন্তু উন্নয়ন দর্শনে মৌলিক কোন পরিবর্তন আসেনি। অর্থাৎ বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার কর্মসূচী কেউ নেয়নি। তাই খালি রাজা-রাণী পরিবর্তনের ভোট নয়। ভোট হতে হবে ধন-বৈষম্য, সুযোগ-বৈষম্য কমাতে। জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক এই কথাটার উপর সকলের আস্থা রাখতে হব্ ে

আমেরিকায় আট বছর পর আবার প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিলেন ডেমোক্রাটরা। এর ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে  ডোনাল্ড ট্রাম্প এর দায়িত্ব পালনে কোন সমস্যা না হলেও নিরঙ্কুস আধিপত্য নিয়ে শাসন ক্ষমতা প্রয়োগে তাকে ধাক্কা খেতে হবে। আমেরিকার মধ্যবর্তী এই নির্বাচনকে সাধারণভাবে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতির গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের গণভোট হিসেবে দেখা হয় আর তাতে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে, আমেরিকার ভোটাররা সেখানে ট্রাম্পকে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন এবং তারা ভবিষ্যতে আমেরিকার রাজনীতিতে একটা পরিবর্তন চাইছেন। ক্ষমতা পরিবর্তনের হাওয়া এখন আরও অনেক দেশেই প্রবাহমান। 

ক্ষমতা চিরস্থায়ী কোন বন্দোবস্ত নয়। কেউই জবাবদিহিতার উর্দ্ধে নন। একদিন না একদিন সকলকেই বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। ভোটের ফলও এক ধরণের বিচার। জনগণের বিচার। এই বিচার ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু হওয়া দরকার। কেউ যদি নিজেদের পক্ষে বিচারের রায় টেনে নেয়ার জন্য ভোট ব্যবস্থায় কারচুপি বা সুক্ষ্ম কারচুপি’র পরিকল্পনা করেন তবে সেটা রুখে দেয়া আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশী তাকে দেব। এই জনআদালতের সার্বিক সুরক্ষা করা সকল নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। এটা কোন দলীয় বিষয় নয়। 

নির্বাচনের ঢোল বেজে উঠেছে। সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ দশজন উপদেষ্টার অধীনে সরকার পরিচালনা এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবী সরকার মানেনি। এখন কি করবে ঐক্যফ্রন্ট? সরকারের এই কঠোর অবস্থান মেনে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে সম্মতি জানিয়েছে বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও এরশাদের জাতীয় পার্টি। বাম গণতান্ত্রিক জোট বলেছে, ‘বল সরকারের কোর্টে’। অবস্থা বুঝে নির্বাচন করা বা বয়কট করা, যে কোন সিদ্ধান্ত নেবার মত প্রস্তুতি বামদের রয়েছে। 
আন্দোলন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের এই দর কষাকষির কৌশল শেষ কোথায়? আমরা জনগণ শান্তি চাই, সমঝোতা চাই, স্থিতিশীলতা চাই। চাই সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন। এর বাইরে যারা যাবেন বা থাকবেন তারা জনগণের প্রকৃত বন্ধু কিনা সেটাও ভাবতে হবে।

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter