একুশের গান                 বর্ণমালা                 একুশ আমার অনেক ব্যথার গান                 আট- ফাল্গুন                 একুশ সারা বিশ্বময়                 তুমি কি বাংলা ভাষা                 এলে একুশে ফেব্রুয়ারী                 একুশের শোকগাঁথা                  প্রিয় ভাষাশহীদ, শ্রদ্ধাঞ্জলী তোমাদের...                 একুশ তুমি কার?                 ফাগুনের আগুন পাখি                  বিমর্ষ বাংলাভাষা                  "মাতৃভাষা বাংলা"                 শোন্ বর্ণমালার গান                 "একুশের প্রথম প্রহর"                 একুশ মানে                

Sunday, February 24, 2019
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
একুশের পংক্তিমালা

একুশের গান
মহাদেব সাহা :

একুশ মানেই আসছে
সালাম ফিরে আসছে, বরকত ফিরে আসছে
তাজুল ফিরে আসছে….
একুশ মানেই মুক্তিযুদ্ধ ফিরে আসছে
সেই সাহসে বুক-পেতে-দেয়া তারুণ্য ফিরে আসছে
তারুণ্যের চোখে দুর্জয় শপথ ফিরে আসছে,
শহীদেরা ফিরে আসছে
স্বাধীনতা ফিরে আসছে
বাংলাদেশ ফিরে আসছে;
এই পদ্মা-মেঘনার দেশে আবার ’৫২ আসছে
’৬৯ আসছে
’৭১ ফিরে আসছে,
একুশ মানেই আসছে, স্বপ্ন আসছে, ভবিষ্যৎ আসছে
একুশ মানে অতীত নয়, আগামী
মৃত্যু নয়, জন্ম
একুশ মানে শ্বাশ্বত বাংলার হিজল-তমাল
ভাটিয়ালি গান শাপলা-ফোটা দিঘি
পদ্মানদীর মাঝি
ঢাকার উন্মুক্ত রাজপথ, দীর্ঘ মিছিল
নগ্ন পায়ে হাঁটা
সারাদিন ‘আমি কি ভুলিতে পারি’।
একুশ মানে আসছে
সালাম আসছে, বরকত আসছে
তাজুল আসছে…
মায়ের অশ্রুভেজা চোখে
আবার আশার ঝিলিক ফিরে আসছে
পিতার তপ্ত বুকে
আবুার বিশ্বাস ফিরে আসছে
সন্তানের ম্লান চোখে
আবার স্বপ্ন ফিরে আসছে,
একুশ মানে আসছে, আসছে, আসছে…
এই একুশে তাজুল ফিরে আসছে
শোষণের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিবাদ আসছে
সম্মিলিত সংগ্রাম আসছে
পুঁজিবাদের জন্য চরম আঘাত আসছে;
একুশ মানে আসছে
বাংলা ভাষার দিন আসছে.
কৃষ্ণচুড়া পলাশের দিন আসছে,
দুনিয়া-কাঁপানো দিন আসছে;
এই একুশ মানে মাঠভরা পাকা ধানের গন্ধ
নদীতে রূপালী মাছ
পালের নৌকা;
একুশ মানে দিগন্তজোড়া আগামী দিনের স্বপ্ন
একুশ মানে জয়নুলের ছবি,
নজরুলের কবিাত
হৃদয়মথিত রবীন্দ্রনাথের গান;
একুশ মানে আমর সোনার বাংলা
একুশ মানে শহীদের পায়ের শব্দ
একুশ মানে অজর, অমর, অবিন্শ্ব।
একুশ মানে আসবে
একুশ মানে আসছে,
শহীদেরা আসছে
স্বাধীনতা আসছে
বাংলাদেশ আসছে;
একুশ মানে আসছে
সালাম আসছে, বরকত আসছে,
তাজুল আসছে, 

...পুরোটা

বর্ণমালা
আবু হেনা মোস্তফা কামাল :

অপমানে তুমি বলে উঠেছিলে
সেদিন বর্ণমালা
সেই থেকে শুরু দিন বদলের পালা

নতুন মন্ত্রে ভরেছিলে অঞ্জলি
আর নয় ভীরু স্বপ্নের পদাবলী
কন্ঠে তোমার বেজেছিলো গান দারুন অগ্নিজ্বালা।

কঠিন ছন্দে বেঁধেছিলে মন্দিরা
গুরু গরজনে জেগেছিলো বন্দীরা
ভেঙ্গে পড়েছিলো শত বন্ধন দুঃশাসণের তালা।

...পুরোটা

একুশ আমার অনেক ব্যথার গান
নাসিমা খান :

এ কেমন সন্ধ্যা নামে
এ কেমন ঘোর,
কাল কী একুশ এলে
জেগে যাবে ভোর ?

কী ঝরে টুপটাপ 
ভেজা এ নিশির
ভাইয়ের বুকের থেকে
রক্ত শিশির ?

কান পেতে শুনি আজ
কিসের শ্লোগান
ভাষার দাবীতে বুঝি
মুক্তির গান ?

ফুল হাতে সারি বেঁধে
কোথা যাও আজ
ভাষার সেনারা কী
গড়ে কারুকাজ ?

বাংলা, বাংলা বলে
কাঁদে কেনো মন
খুশির মাঝে কী বহে
ব্যথার ফাগুন ?

ফুলের অর্ঘ্য দিয়ে 
সাজাও মিনার
জানো কী মূল্য কত
বাংলা ভাষার ?

ফাগুনে আগুন কেনো
একুশ এলে
ভাষার গর্বে বুঝি
প্রদীপ জ্বলে ?
অতঃপর ------

আগুন ঝরা ফাগুন এলো
ঝরলো ব্যথার দান
শেষ হবে না কোটি প্রশ্নে
মাতৃভাষার গান !

...পুরোটা

আট- ফাল্গুন
দিলু রোকিবা :

একুশ তুমি পলাশের ফুলে ফুলে রক্ত কেন?
ফাগুনের গানে এতো দুঃখ কেন !
আজ সকালের সূর্য্যটা ম্লান কেন!!
কোকিল তুমি স্তব্ধ কেন!!

আজ আট ফাগুন বলে•••
মাতৃভাষার জন্য দিয়ে গেছে প্রাণ,
তাদের স্মৃতি জাগানিয়া
কবিতা গান -- 
আজো অক্ষয়- অম্লান।

সেই চেনা গান••
সুরের মূর্ছনায় কাঁদে শতো বাঙালির প্রাণ•••

*বায়ান্নর আট ফাগুন*
•••••••******•••••••
বাংলার আকাশে টলমল শিশির বিন্দু, মায়ের অশ্রু ঝরা, আর দূর্বাঘাস,
আহ্ এমন মিষ্টি ভাষা --
শহীদের রক্তে মাতৃ অঙ্গ 
মাখা••
সবুজের বুকে লাল সূর্য্য আর আত্ম ত্যাগী হৃদয় চেরা সেই * আটই ফাল্গুন*
আবার নিয়ে এসেছো 
কৃষ্ণ চূড়ার 
আগুন

...পুরোটা

একুশ সারা বিশ্বময়
হোসনেয়ারা বেগম :

পিচঢালা পথের পাশে

ঘাসফুলে উড়ে উড়ে

একটি ঘাসফড়িং কী খুঁজে

 কাকে খুঁজে ঘুরে ঘুরে

 টিএসসির মোড়ে!

 সেই ঘাসফড়িংটি যার দুমড়ানো ডানায়

আজও ভাষা শহীদের রক্ত লেপ্টে আছে!

সকালে শিশিরে মধ্যাহ্নে বিকেলে

কী খুঁজে কাকে খুঁজে নীরবে?

দুর্বাঘাসে জমে ওঠা থকথকে রক্ত

ভাঁজভাঙ্গা মায়ের চিঠি?

যা ছিটকে পড়েছিল রাজপথে?

কি বলতে চায় বরকত সালাম

রফিক শফিকের কানেকানে?

  সারা পৃথিবীময় আজ একুশ দেখ

 "ভাষাদিবস" মাতৃভাষার সম্মানে!!!

...পুরোটা

তুমি কি বাংলা ভাষা
এস, কামরুন নাহার :

তুমি কি বাংলা ভাষা?
তুমি কি বাঙালীর আশা?
তুমি কি বায়ান্ন সালের
রক্তে ভেজা ফুল?
তোমায় বুকে জড়িয়ে
রাখতে হয়েছি আকুল।

তুমি কি বাসা বেধেঁছ বাংলার ডালে,ডালে?
তুমিই কি ফুটাও ফুল
শরৎ, হেমন্ত,শীত কালে? যে ফুলে শ্রদ্ধাঞ্জলি হয় শহীদ মিনারে।

তুমি কি সবুজ শ্যামলের
লাল কৃষ্ণচূড়া?
তুমিই কি ভাষা শহীদের
নির্মম রক্ত ঝরা?
যে রক্তের স্রোতে ভেসে গিয়েছিল বাংলা মায়ের আঁচল!হারানো সুরে বিলাপে কেঁদেছে মমতা
মাতৃ কোল!

তুমি কি বিরহ গাঁথা বাংলার উর্বর মাটি,
ব্যথিত কাদাজল?
তুমিই কি ভাটিয়ালী সুরে
মাঝির কণ্ঠে বাংলার গান,পাল তুলে যাওয়া নদীর জল? তোমার জন্যেই মায়ের চোখ দু'টি অশ্রুতে টলমল!

তুমি কি সুবাসিত বাংলার বায়ু, উড়ন্ত পাখির শান্তিনিকেতন?
প্রাণ খুলে হাঁসা,চিৎকারে
কাঁদা সে ও কি বলো তুমি? তোমায় পেয়ে স্বার্থক জনম আমার-
স্বার্থক জন্মভূমি!

তোমার মলিনতায় বক্ষে
আমার বিদ্রোহানল জ্বলে! হারানো ভাইয়ের
স্মৃতি গুলো এসে কানে, কানে কথা বলে!বিনিময় 
করেছে রক্ত তারা,বুক পেতে দিয়েছে প্রাণ!আমরা বাঙালী ভুলবো না কখনো শহীদদের অবদান।

...পুরোটা

এলে একুশে ফেব্রুয়ারী
রফিকুল ইসলাম :


ছোপছোপ রক্তের দাগ।
লজ্জায় রাঙা শিমুল পলাশ থেমে থেমে
প্রভাতী কোকিলের ডাক
পবিত্র মাটি নগ্ন পায়ে হাঁটি বিশ্বের গাঁয়ে 
রক্তের দামে বাংলা বেঁচে থাক।
একুশে ফেব্রুয়ারী এলে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে
জাগে ভালোবাসায় হৃৎপিণ্ডের শহর
বাংলার অক্ষর যেনো একটি মহর।
কত কবিতা কত গান কত প্রেম জাগে প্রাণে 
সাজে বর্ণমালায় অমর একুশে ফেব্রুয়ারী
থেমে যায় সব অবহেলার আবরণে 
অতঃপর সযত্নে অন্য ভাষা ফেরী করি !
...পুরোটা

একুশের শোকগাঁথা
শিরিন আক্তার :

একুশ এলেই মনে পড়ে মাগো! 
তোমার সোনার ছেলেদের কথা, 
মায়ের বুক নিঃশেষে উজার করে দিয়ে 
গেঁথে গেল যারা এক অবিনশ্বর শোকগাঁথা। 
একুশ, তুমি বায়ান্ন এর ফেব্রুয়ারি 
তোমাকে কি ভুলিতে পারি? 
একুশ, তুমি মাতৃভাষা আদায়ের 
সংগ্রামে, রক্তে রন্জিত রাজপথ। 
একুশ, তুমি পুত্রহারা জননীর করুন আর্তনাদ 
নিঃসঙ্গ যন্ত্রণার এক নিঃসীম হাহাকার। 
বাবার রক্তাক্ত হৃদয়ের বোবা কান্নার নোনাজল। 
একুশ, তুমি মায়ের ভাষায় কথা বলার অমোঘ হাতিয়ার। 
একুশ, তুমি বাঙালিকে সারা বিশ্বে, মানবসভ্যতার 
অগ্রযাত্রা আর মনন- প্রবাহে করেছ জাতিস্মর। 
একুশ, তুমি বাংলা ভাষাকে এনে দিয়েছ 
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি। 
তোমাকে কি করে ভুলি? 
একুশ, তুমি বাঙালির বীরত্বগাঁথা, 
হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল 
এক শুভ্র শিউলি মালা। 
একুশ, তুমি কিংবদন্তি বাঙালি জাতিসত্তা,

সাহিত্য- সংস্কৃতি, ইতিহাস - ঐতিহ্য, চেতনার এক 
জ্বলন্ত অগ্নিগীরি। 
তোমাকে কি করে ভুলি? 
তুমি বাঙালির প্রাণ, বিশ্ব ইতিহাসে এক গৌরবান্বিত অধ্যায়, 
সালাম, বরকত,রফিক, জব্বার তারা কি কখনো 
বিস্মৃতির অতলে হারায়? 
যুগের পর যুগ,শতাব্দীর পর শতাব্দী কেটে যাবে 
তোমার ছেলেরা চির ভাস্বর হয়ে রবে বাংলার ইতিহাসে;
নমি তোমায় বারে বারে, 
হে অমর একুশে!

...পুরোটা

প্রিয় ভাষাশহীদ, শ্রদ্ধাঞ্জলী তোমাদের...
জাহানারা খাতুন :

জানো...
রাত পোহালেই একুশ আসবে-
স্বরণে তোমাদের-
আজ, প্রতিটা শহীদ মিনারের বেদী
ফুলের বন্যায় ভাসবে।

যারা...
মায়ের ভাষা 'বাংলা'কে
বাঁচাতে জীবন দিয়ে গেলে
সেই সব দামাল ছেলেদের
স্বরণ করবে ভালবাসায়।

তোমরা...
ভাষাকে ভালবেসে জীবন দিয়ে
অমর হয়ে বেঁচে রয়েছো
বাংলায়, বাঙালির মনে
তোমাদের ঋণ কোনদিনও
শোধ হবার নয়।

জানি...
ঢাকা শহরের রাজপথে
রক্তের হলি খেলা হয়েছিলো
পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়ে
বীর বাঙালি লড়াই করেছে।

মনে রেখো...
হে প্রিয় ভাষাশহীদ-
বাংলার জনগন ভোলেনি-
ভালবাসে তোমাদের
প্রতি বছর স্বরণ করে
ভুলে না, ভুলবে না, ভুলতে পারে না।

বাঙালির মনে...
ছিলে, আছো, থাকবে চিরদিন।
সারা বাংলাময়, স্বরণ করে
তোমাদের বিনম্র শ্রদ্ধায়
তোমরা চির অমর এই বাংলায়
বাঙালির ভালবাসায়।

...পুরোটা

একুশ তুমি কার?
শামছুন্নাহার রুবাইয়া :

বিশ্বজনীন ইতিহাসের পল্লবে 
আছো ছেঁয়ে,
একুশ তুমি জনিকা,স্বাধীনতা
তোমার মেয়ে,
উরগের আশিতে বিষ,
তাইতো ছোবলে রফিক জব্বারে
রক্তে রাঙ্গালে নীল শীস। 
তারুন্যের উজ্জীবিত দীপ্তিকে
তৃপ্তি ভরে খেয়েও স্বাধ মিটেনি,
হৃতসর্বস্ব একাগ্রচিত্তে করতে
চেয়েছিলে,
লাভ কি হলো? 
কি শান্তি পেলে?
কেন গিলে খেলে?
কেন মারলে?
আমার বাংলা জনিকার ছেলে।
তাই একুশ তুমি কার?
বলো না একবার,
কান পেতে রই,বললে হৈ হৈ,
আমি সবার সবার সবার
আমি বাংলার জনিকার।

...পুরোটা

ফাগুনের আগুন পাখি
এম,সাফায়েত হোসেন :

ফাগুন এলেই স্মৃতির কপাট খুলে হৃদয়ের আরশীতে ভাসে আগুন ঝরা দিনগুলির চেতনার দুলহান আগুন পাখির কথা,
বর্বর নির্মম ইতিহাসের আঁধার উঠোনে বিছানো মিহি লাল সুতোয় বিষাদের নকশীকাঁথা।

এখনো ফাগুন এলে অপমানের আগুন জ্বলে আমার দুখিনী বর্ণমালা গায়
পুরানো ঘা দগদগিয়ে ওঠে,বুকের পাঁজড় ভাঙ্গতে থাকে দুঃসহ ব্যাথায়।

গতরের ক্ষত রয়েছে যে কত, শত লালখুন চুঁয়ে চুঁয়ে পড়ে এখন ও অবিরত,
আজও রোষের অনল দ্বিগুণ জ্বলে রাগে ক্ষোভে খুনে লাল হয় শিমুল পলাশ, কৃষ্ণচূড়া যতো।

মায়ের মুখের মধুর বুলি বলি দিতে হবে 
নিতে হবে বিজাতীয় গালি গলে তুলে,
কাকের কর্কশ স্বর কন্ঠহার হবে,মমতার ডাক 
যেতে হবে ভুলে,কে শুনেছে কোন কালে?

না মানার শপথে বলিয়ান, নিহারিকা অবতার,
নদীর তুফানের মতো আসে প্রতিবাদের জোয়ার।

এক শত চুয়াল্লিশ মৃত্যু প্রাচীর ভেঙ্গে রাজপথে নেমে
আসে আগুন পাখির দল,
জালিমের বুলেট পাখি তুচ্ছ হয়ে যায়,বর্ণমালা লিখে 
রাখে রক্তের দামে,
পিচ ঢালা প্রচ্ছদপটে আঁকা হয় লুভে
মিউজিয়ামের সেরা ছবি ' অ আ ক খ' নামে।

অবশেষে কালের তক্তে বসে ঘৃণায় ফেটে পড়ে
ক্ষোভের লাভায় জমাট বাঁধা পাষাণ ভিসুভিয়াস, 
শহীদের রক্তের শপথ ভেঙ্গে বর্ণমালার গায়ে সেটে দেয়
বিজাতীয় শব্দ ভাইরাস। 
সোনা যাদু মনি,একী বলে শুনি,মিষ্টি অধরে ফোঁটে না
আর মমতার কলি, ফোঁটে শুধু বিকৃত বিজাতীয় শব্দের খই,
চেতনা ঢেকে যায় লজ্জার চাদরে শহীদের আত্মার কাছে আমরা,বারবার ধিক্কৃত হই।

ফাগুন এলে শুধু ধুধু মরুর বুকে বৃথা চেষ্টা হয়
ভাষাপ্রেম,দেশপ্রেমের কিছু কৃত্রিম ফুলের চাষ,
অথচ বারমাস বর্ণমালা আমার অবহেলায় অনাদরে বিশ্ব মঞ্চে, আদালতের প্রপঞ্চে, দপ্তরের বদ্ধ দেরাজে
দুরুদুরু বুকে বর্ণমালা ফেলছে তপ্ত দীর্ঘশ্বাস।

...পুরোটা

বিমর্ষ বাংলাভাষা
জহিরুল হক বিদ্যুৎ :

আরো কিছু প্রাপ্তি হয়তো রয়ে গেছে বাকি।
বহতানদীতে, বয়ে যাওয়া রক্ত স্রোতে--
বিসর্জনের পলিতে শুধুই দূষণ পলিমার। 
অধরা পল্লীতে বিরহ রাগিণী গানে, 
দোলা দেবে কি শ্রাবণী বিভোর ঘুমন্ত প্রাণে?
পুষ্পে, পত্রে বসন্তের দীর্ঘশ্বাসে--- 
ভাষা সৈনিকের আত্মা উঠে ডাকি,
আর কিছু প্রাপ্তি হয়তো রয়ে গেছে বাকি।

উলঙ্গ নগরী ঝলমলে আলোর মেলা
শূন্যতায় তবু জ্বলে যায় প্রদীপ্ত বিলবোর্ড, 
অর্জিত প্রাণের ভাষা অনাদরে পথেঘাটে 
বাংলাভাষাহীন লেখা হয় অনেক সাইনবোর্ড।
নগরীর অলিগলি আর মুক্ত পথেঘাটে---
মাতৃভাষা সিক্ত হয় বেদনার জলে।
থেমে থেমে কেঁদে ওঠে পরিশ্রান্ত বর্ণমালা, 
কোন সে হেয়ালী ছলে?
বিদেহী আত্মার ছোটাছুটি ধূপ শিখা ঘিরে; 
পুষ্প পাপড়ি ভাঁজে নিয়তির ফাঁকি-
আরো কিছু প্রাপ্তি হয়তো রয়ে গেছে বাকি---

আমায় রেখো না ফেলে অন্ধকার নিমজ্জনে , 
ভিজতে দাও সদ্য-প্রভাত রবির স্নানে। 
মদিরার কপটতা 
চিন চিন বুকের শিরায় 
লুকানো ধ্বংসের মৃত্যুবীজ পোতা।

তুলে ধরো গৌরবে আমায় আপন গগনে
স্থান দাও সর্বক্ষেত্রে মন ও মননে। 
বিলবোর্ড সাইনবোর্ড অফিস ও আদালতে
ধ্বনি উঠুক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিষদে।
চর্চা করো সযতনে বছরের প্রতিক্ষণে
৮ই ফাল্গুন রবির রক্তাক্ত অর্জনে।
আমায় লালন করো রক্তে, বুকের গহীনে 
পুষ্ট করো আমায় মাতৃভূমির স্তনে।

আমায় তোমরা খুঁজে নাও প্রাণে
প্রতিনিয়ত ঐ স্বদেশের গানে। 
বহতানদীর কলতানে---
ভোরের পাখির মিষ্টি কূহুতানে।

কান পেতে শুনি ব্যস্ত লোকালয়ে 
বিদেহী আত্মার শুধু আহাজারি ডাকাডাকি 
আর কিছু প্রাপ্তি হয়তো রয়ে গেছে বাকি---

...পুরোটা

"মাতৃভাষা বাংলা"
মু.ইসমাইল হুসাইন :

বাংলা'রে তুই মায়ের ভাষা
ভাব প্রকাশের ধ্বনি
তোর প্রতিকৃত্ বর্ণ লিখে
শিখে সোনামণি!

বাংলা মায়ের কৃষক শ্রমিক
তোর ধ্বনিতে বলে
কামার কুমার জেলে চাষী
কন্ঠে ধরে চলে।

রাখাল ছেলের মুরালি'তে
তোর অনুভব সুর
ভাটিয়ালী সুরের গান তোর
ধ্বনি সুমধুর।

জারি সারি ভাওয়াইয়া গান
বাংলা ভাষায় লেখা
যার অনুভব ছোঁয়াতে পাই
জন্মভূমির দেখা।

তোর মমতার শব্দে লেখা
হাজার রকম গান
আল্লাহ রাসুল প্রেমের গানে
জুড়ায় সবার প্রাণ।

পাক হানাদার চেয়েছিল
নিতে তোকে কেড়ে
বাংলা মায়ের দামাল ছেলে
দেয়নি তোকে ছেড়ে।

বাংলা ভাষা তোর দাবিতে
রাজপথে হয় মিছিল
রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে 
পাস কর এই বিল।

মায়ের ভাষা তোর ইতিহাস
রক্তঝরা স্মৃতি।
উনিশ শত বাহান্ন সাল
তোর স্মৃতিময় প্রীতি।

বাহান্নরই ফেব্রুয়ারি 
একুশ তারিখ দিন
শহীদ রক্তে উঠল বেজে
তোর বিজয়ের বীণ

রফিক,জব্বার,সালাম বরকত 
শহীদ হলো যারা
বিরল ইতিহাসের পাতায় 
অমর হলো তারা।

বাংলা'রে তুই স্বীকৃতি আজ 
আন্তর্জাতিকভাবে
যুগে যুগে সবাই তোকে 
শ্রদ্ধা করে যাবে!

...পুরোটা

শোন্ বর্ণমালার গান
আরেফিন শিমুল :

কান পেতে শোন্ তোরা বর্ণমালার গান
অ,আ,ক,খ জোট বেঁধেছে হয়েছে একপ্রাণ
শোন্ বর্ণমালার গান।

আমার মায়ের মুখের কথা যারা কেড়ে নিতে চায়
ভয় দেখিয়ে বাংলার পায়ে উর্দুর শেকল পড়ায় 
ওরা সব কেড়ে নিতে চায়।

সালাম, জব্বর, রফিক, শফিক এমন আরো কতো
সোনার দেশের সোনার ছেলেরা জড়ো হলো শত
এমন আরো কতো।

মিছিল মিটিং স্লোগানে সেদিন রাজপথ কাঁপে
মায়ের সম্মান রাখতে ছেলে নিজেকে দেয় সঁপে 
সেদিন রাজপথ কাঁপে।

বেয়োনেটকে তুচ্ছ করে হাতে নিলো জান
পাকবাহিনী করলো তখন রক্ত জলে স্নান 
তারা হাতে নিলো জান।

ফাগুন মাসের আট তারিখ রক্ত রাঙা পলাশ
রক্ত তো নয় শিমুল হয়ে ঝরেছে ছেলের লাশ
কত রক্ত রাঙা পলাশ।

ভবঘুরে বর্ণগুলো দ্যাখ একসাথে আজ
মায়ের ভাষা আমার দেশে হলো মাথার তাজ
দ্যাখ একসাথে আজ।

স্বাধীন দেশে স্বাধীন আমরা স্বাধীন মুখের বুলি
রাজপথে তাই বুক ফুলিয়ে একসাথেই চলি
স্বাধীন মুখের বুলি।

কবিতারা সুর তুলেছে বাংলা মায়ের দান
শত্রুর দেখা পেলেই তোরা আবার আঘাত হান
শোন্ বর্ণমালার গান।

...পুরোটা

"একুশের প্রথম প্রহর"
মাসুমা নাসরীন সিফা :

একুশের প্রথম প্রহরে,
আজ শুধু প্রতিধ্বনি 
বেজে চলেছে কর্ণকুহরে,
'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' 
  ধ্বনিত হচ্ছে বারংবার 
উত্তাল সেই রাজপথে,
আপোষহীন সে দাবি,
    যেন মানেনা কোন বাধা,
১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে
  এগিয়ে চলে সম্মুখে দুর্নিবার।

একুশ মানে আমার কাছে
   ইতিহাসের অকাল সাক্ষী সেই ১৯৫২!
রাজপথে নির্দয় বুলেটে
         ঝাঁজরা করে দেয়া
                    অজস্র মৃত ভাইয়ের প্রাণ!

একুশ মানে প্রেমিকার হাতের 
লাল কাচের চুড়ির রিনরিনে অনুরণন
আর পৌঁছুবে না কোনদিন
                              সালামের কানে!

একুশ মানে বরকতের মায়ের
বুক নিংড়ানো গগনবিদারী আহাজারি, জব্বারের স্ত্রীর গোপন নির্বাক কান্না,
      ছোট্ট শিশুপুত্রের বড় বড় চোখে আধোআধো বুলিতে অবাক জিজ্ঞাসা,"মা,বাবার শার্ট 
                          এতো লাল কেন?"

একুশ মানে ঘৃণিত শাসকের সেই কালরাত্রিতে নাম না জানা
বেওয়ারিশ লাশ গণকবরে দাফন,
একুশ মানে 
   প্রতিবাদী জনতার দুর্বার অবরোধ,
কোণঠাসা হয়ে পড়া
  নির্লজ্জ বহুরূপী  শাসকের দল।

একুশ আমার অহংকার,
  একুশ আমার অর্জন,
একুশ আমার ধমনীতে
আর শিরায় শিরায় 
বয়ে চলা অবিরাম জলস্রোত!

একুশ মানে মায়ের ভাষা,
  প্রাণের ভাষা বাংলা,
এই ভাষাতেই তৃপ্তি আমার,
           শ্রদ্ধা অফুরন্ত।

...পুরোটা

একুশ মানে
মোহাম্মদ সাদিক হোসেন :

একুশ মানে প্রতিবাদের ভাষা, একুশ মানে দীপ্ত  
একুশ মানে কুয়াশা ঢাকা বরকতেরই রক্ত 
একুশ মানে প্রভাতফেরীতে নগ্ন পায়ে চলা
একুশ মানে বাংলায় ভাষা গর্বের সাথে বলা  
একুশ মানে রক্তে রাঙ্গানো কৃষ্ণচূড়ার ডাল 
একুশ মানে বিদ্রোহীদের রক্তের কোলাহল 
একুশ মানে বরকত সালাম জব্বার আরও কত নাম 
একুশ মানে শহীদ মিনারে বাংলাদেশের গান 
একুশ মানে রাজপথে গর্জে ওঠা স্বাধিকারের সুর  
একুশ মানে সাম্যবাদী চেতনায় ভরপুর 
একুশ মানে মায়ের মুখের মিষ্টি মধুর বাণী 
একুশ মানে থমথমে রাতের আজানের ঐ ধ্বনি 
একুশ মানে বন্দুকের বীভৎস ঐ শব্দ
একুশ মানে হায়েনাদের হাতে বাংলার বুক দগ্ধ  
একুশ মানে শোকের চিহ্ন দুঃখিনী বর্ণমালা
একুশ মানে জেগে উঠে মনে প্রতিশোধের জ্বালা  
একুশ মানে শহীদের রক্তে নতুন বাংলাদেশ 
জয় বাংলার শ্লোগান দিয়ে হয়েছে স্বাধীন স্বদেশ    
একুশ আমাদের দিয়েছে যেন মুক্তির জয়গান   
একুশের মাঝে খুঁজে পাই তাই ভালোবাসারই প্রাণ।  

...পুরোটা

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter